খোঁজাখুঁজি

Sunday, March 19, 2017

ডিমানিটাইজেশানের দিনলিপি

৮ই নভেম্বর ২০১৬
বাড়ী ফিরতে ফিরতে প্রায় পৌনে আটটা, এর মধ্যেই দেখি অফিসের লীডারশিপ গ্রুপটায় লোকজন উত্তেজিত, কি না 'প্রধানমন্ত্রীজি ভাষণ দেনেওয়ালে হ্যাঁয় রাত আট বাজে টিভি পর'। দ্যাত্তেরি, দিতে থাকুক, ভেবে গুরুত্ব  দিই নি। ওবাবা সমানে টুংটাং মেসেজের ঝড়। খুলে দেখি সব ৫০০ আর ১০০০ টাকার নোট মাঝরাত থেকে বাতিল ব্লা ব্লা ব্লা। প্রথমেই মাথায় এল আর সিগনালে রবীন্দ্রসংগীত বাজানোর আদেশে আমরা কিনা পশ্চিমবঙ্গের ওনাকে মহম্মদ বিন তুঘলকের সাথে তুলনা করেছিলাম। তারপর আলমারীর ড্রয়ার হাঁটকে দেখলাম যা খুচরো আছে তাতে এক্ষুণি এটিএমে গিয়ে লাইন দিতে হবে না।  যাক আপাতত নিশ্চিন্ত। শনিবারে দেখা যাবেখনে

Sunday, February 28, 2016

বিশ্বাস অবিশ্বাস ধর্ম অধর্ম --- কিছু এলোমেলো ব্যক্তিগত কথন

আমার শৈশবের অনেকখানি আর কৈশোর ছিল ভারী একলামত| আমি যখন আট নয় বছরের  মেয়ে,  তখনই আমাকে প্রায় পূর্ণবয়স্ক মানুষ হিসেবে গণ্য করা হত| প্রায় বললাম, কারণ পূর্ণবয়স্ক মানুষের মত আমার মতামত গ্রাহ্য করা হত না, কিন্তু কাজকর্মে, আচার আচরণে পূর্ণবয়স্ক মানুষের মত ব্যবহার আশা করা হত| আমি বুঝতে শুরু করেছিলাম ভাইয়ের  আগে জন্মানোয় আমাদের প্রাচুর্য্যের সময়ের পুরোটা, আট বছর ধরে আমি ভোগ করেছি, কিন্তু ভাই মাত্র দুই বছর ----- তাই এখন আর আমার কিছুই প্রাপ্য নয়|

Tuesday, October 13, 2015

পরের জা’গা পরের জমি

 'পরের জা’গা পরের জমি ঘর বানাইয়া আমি রই
   আমি তো সেই ঘরের মালিক নইই'
মামাতো দিদির বিয়ের রাতে গানটা শুনেছিল মৌসুমী, দিদির মেজভাসুর বাসরে গেয়েছিলেন৷লোকগীতি, তাই 'জা'গা' এবং 'জমি'তে জ-এর উচ্চারণ জেড -এর মত৷ মৌসুমী বেশ একটু অবাকই হয়েছিল গানটা শুনে৷ গানের অন্তর্নিহিত উদাসীন সুরটা, কথাগুলো ঠিক বিয়ের আসরের উপযোগী নয়, উজ্জ্বল ঝ্কমকানি বা উচ্ছল চটুলতার সাথে কিঞ্চিৎ বেমানান৷ গানটা কিন্তু মাথা থেকে বেরোয় নি, ঐ দুই লাইন সুরসমেত আজ  তিরিশটা বছর পার হয়েও একেবারে গেঁথে আছে মাথায়৷ আশ্চর্য্যের ব্যপার হল তার পরের আর একটা লাইনও মনে নেই। আজ ইমেল চেক করতে করতে আরও একবার মনে পড়ল৷ সুমি মাথা থেকে গানটাকে সরাতে সরাতে মাউসের ওপর আঙুলের চাপে দ্রুত স্ক্রোল করতে থাকল ইনবক্সে আসা মেলগুলো৷ একগাদা বিজ্ঞাপন, খানদুই ব্যাঙ্কের মেল, ক্রেডিট কার্ড আর সেভিংসের মান্থলি স্টেটমেন্ট --- এইত্তো সোনু শর্মার মেল আছে, এটাই খুঁজছিল ও৷ এইবারে রো-হাউসের ডুপ্লে ইউনিটটার রেজিস্ট্রেশান করিয়েই এখান থেকে যাবে ও৷

Monday, October 27, 2014

নিরালম্ব

এইখানে এলে আজকাল আমার কেমন যেন ঝিম ধরে, ঘুম ঘুম পায় আর খুব গরম লাগে, কেমন যেন দমচাপা| মানুষগুলো সব একই  চক্করে ঘুরেই চলেছে তার আর আগেও নেই পিছেও নেই| দাদা অবশ্য বলে 'ও তুই ওখানে বড্ড পরিশ্রম করিস তো, তাই এখানে এলে শরীর এলিয়ে দেয়', আর বাবা হিসহিসিয়ে বলে 'ঘরের কোনো টান নেই তাই এইসব কথা, এই ছুতোয় যতটা বাইরে থাকা যায়'  দাঁত নেই তাই দাঁত কিড়মিড়াতে না পেরে কথাগুলো অমন হিসহিসিয়ে বেরোয়| আমি ভাল করে দেখি বাবাকে, রোগা হতে হতে হাড় জিরজিরে, খসখসে কোঁচকানো চামড়া, ছানিপড়া চোখ, দাঁতবিহীন তোবড়ানো গাল,জরার সবকটি লক্ষণ একেবারে চীৎকার করে জানান দিচ্ছে সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ থেকে| শুধু জিহ্বা আর কন্ঠস্বর একইরকমভাবে দাপট দেখায়, যেমন দেখাত আজ থেকে দুই, পাঁচ, দশ, পঁচিশ  বছর আগে| দাপট বড় ভাল জিনিষ| যতদিন হাড্ডিগুলো শক্তপোক্ত আর মাথাটা ঘাড়ের ওপরে খাড়া থাকে, যতদিন আঙুল তুললে আঙুল একটা আর্টেক্স পেনের মত খাড়া হয়ে থাকে, ততদিনই|  এখন যখন মাথা ঘাড়ের ওপরে অল্প অল্প দোলে , আঙুল তুললে হাওয়ায় আঁকা হয় অদৃশ্য আখর, ভেঙে যাওয়া গলার স্বরে, মাথার দোলনে দাপটকে লাগে কার্টুনসম|  তবু অভ্যাসে দাপট হাঁ করতে চায়, থাবা বাড়াতে চায়, আর ডুবে যেতে থাকে ধুসর শুন্যতায়  ---- সে বড় করুণ দৃশ্য রে বাপ|