খোঁজাখুঁজি

Tuesday, October 13, 2015

পরের জা’গা পরের জমি

 'পরের জা’গা পরের জমি ঘর বানাইয়া আমি রই
   আমি তো সেই ঘরের মালিক নইই'
মামাতো দিদির বিয়ের রাতে গানটা শুনেছিল মৌসুমী, দিদির মেজভাসুর বাসরে গেয়েছিলেন৷লোকগীতি, তাই 'জা'গা' এবং 'জমি'তে জ-এর উচ্চারণ জেড -এর মত৷ মৌসুমী বেশ একটু অবাকই হয়েছিল গানটা শুনে৷ গানের অন্তর্নিহিত উদাসীন সুরটা, কথাগুলো ঠিক বিয়ের আসরের উপযোগী নয়, উজ্জ্বল ঝ্কমকানি বা উচ্ছল চটুলতার সাথে কিঞ্চিৎ বেমানান৷ গানটা কিন্তু মাথা থেকে বেরোয় নি, ঐ দুই লাইন সুরসমেত আজ  তিরিশটা বছর পার হয়েও একেবারে গেঁথে আছে মাথায়৷ আশ্চর্য্যের ব্যপার হল তার পরের আর একটা লাইনও মনে নেই। আজ ইমেল চেক করতে করতে আরও একবার মনে পড়ল৷ সুমি মাথা থেকে গানটাকে সরাতে সরাতে মাউসের ওপর আঙুলের চাপে দ্রুত স্ক্রোল করতে থাকল ইনবক্সে আসা মেলগুলো৷ একগাদা বিজ্ঞাপন, খানদুই ব্যাঙ্কের মেল, ক্রেডিট কার্ড আর সেভিংসের মান্থলি স্টেটমেন্ট --- এইত্তো সোনু শর্মার মেল আছে, এটাই খুঁজছিল ও৷ এইবারে রো-হাউসের ডুপ্লে ইউনিটটার রেজিস্ট্রেশান করিয়েই এখান থেকে যাবে ও৷

Monday, October 27, 2014

নিরালম্ব

এইখানে এলে আজকাল আমার কেমন যেন ঝিম ধরে, ঘুম ঘুম পায় আর খুব গরম লাগে, কেমন যেন দমচাপা| মানুষগুলো সব একই  চক্করে ঘুরেই চলেছে তার আর আগেও নেই পিছেও নেই| দাদা অবশ্য বলে 'ও তুই ওখানে বড্ড পরিশ্রম করিস তো, তাই এখানে এলে শরীর এলিয়ে দেয়', আর বাবা হিসহিসিয়ে বলে 'ঘরের কোনো টান নেই তাই এইসব কথা, এই ছুতোয় যতটা বাইরে থাকা যায়'  দাঁত নেই তাই দাঁত কিড়মিড়াতে না পেরে কথাগুলো অমন হিসহিসিয়ে বেরোয়| আমি ভাল করে দেখি বাবাকে, রোগা হতে হতে হাড় জিরজিরে, খসখসে কোঁচকানো চামড়া, ছানিপড়া চোখ, দাঁতবিহীন তোবড়ানো গাল,জরার সবকটি লক্ষণ একেবারে চীৎকার করে জানান দিচ্ছে সমস্ত অঙ্গ প্রত্যঙ্গ থেকে| শুধু জিহ্বা আর কন্ঠস্বর একইরকমভাবে দাপট দেখায়, যেমন দেখাত আজ থেকে দুই, পাঁচ, দশ, পঁচিশ  বছর আগে| দাপট বড় ভাল জিনিষ| যতদিন হাড্ডিগুলো শক্তপোক্ত আর মাথাটা ঘাড়ের ওপরে খাড়া থাকে, যতদিন আঙুল তুললে আঙুল একটা আর্টেক্স পেনের মত খাড়া হয়ে থাকে, ততদিনই|  এখন যখন মাথা ঘাড়ের ওপরে অল্প অল্প দোলে , আঙুল তুললে হাওয়ায় আঁকা হয় অদৃশ্য আখর, ভেঙে যাওয়া গলার স্বরে, মাথার দোলনে দাপটকে লাগে কার্টুনসম|  তবু অভ্যাসে দাপট হাঁ করতে চায়, থাবা বাড়াতে চায়, আর ডুবে যেতে থাকে ধুসর শুন্যতায়  ---- সে বড় করুণ দৃশ্য রে বাপ|

Tuesday, December 10, 2013

উচ্ছেদ ও নয়াবসতের ছত্তিরিশ কাহন

রাজারহাট, নিউ-টাউন --- উচ্ছেদ ও নয়াবসতির ছত্তিরিশ কাহন যেখানে ছড়িয়ে আছে প্রতি কাঠা জমিতে| নব্বইয়ের দশকে কে যে প্রথম স্বপ্ন দেখেছিল জলাজমি, ধানজমি আর অজস্র জীববৈচিত্র্যে ভরা ধুপির বিল , ঘুণির বিল সহ এই বিস্তীর্ণ অঞ্চলকে ছেনে উপড়ে ঢেলে নতুন করে সাজাবে, তা আজ আর জানার কোনও উপায়ই নেই| ইমতিয়াজ আলি, বালু সর্দার, সুশান্ত মিস্ত্রিরা ত্খনও জানত লাল পার্টি হল গরীবের বন্ধু, ত্রাতা, তাদের কাছের লোক| তাই যখন হঠাৎই একদিন তাদের ফলন্ত ধানের ক্ষেতে ঢেলে দেওয়া হয় কয়েক ট্রাক মাটি, কিম্বা চালিয়ে দেওয়া হয় ভলভো বাস্ আর তদারকিতে থাকে লোকাল কমিটির '--'দা; তারা ভারী অবাক হয়ে গেছিল, এতটাই অবাক যে একটা কথাও বলতে পারে নি| আর অমনি করেই তারা টুপ করে কোথায় যেন হারিয়ে গেল একদিন, আর তাদের খুঁজেও পাওয়া গেল না| যাদের মুখে কথা ফুটেছিল, চোখে রাগ আর হাতে কাটারি উঠেছিল তাদের কেউ কেউ পাখি সর্দারের মত গুলি খেয়ে টপকে গেল, কিম্বা বাপি সর্দারের মত হঠাৎই মস্ত বড়লোক হয়ে বাইক দাপিয়ে ঘুরতে লাগল| ধানক্ষেত আর বিল, জলা ভরে উঠল মাটিতে, যে মাটিকে ওরা মা বলেই জানত| 'মা-মাটি-মানুষ'এর মমতাময়ী শ্লোগান তৈরী হতে তখনও একযুগ বাকী|

Sunday, October 20, 2013

মাসকাবারি বইপত্তর - ৮ (সেপ্টেম্বর-অক্টোবর'২০১৩)

মাসকাবারি বইপত্তরের হিসেব পত্তর বছরখানেক  কি দুয়েক আগে বেশ নিয়মিতই রাখতাম আর লোকজনকে ডেকে হেঁকে সদ্য পড়া বই নিয়ে বকরবকর করবার কলেজীয় অভ্যাসে ফেসবুকেও লিখে রাখার  বদভ্যেস ছিল, যদি কেউ দুই চারক্থা বলে এই আশায়| তারপর কালের নিয়মে চোখ আর হাত পাল্লা দিয়ে দুর্বল হতে লাগল, সাথে কমতে লাগল সময়, মনঃসংযোগ| তা 'বিজ্ঞান আশীর্বাদ না অভিশাপ' রচনায় চিরকালই যে 'আশীর্বাদ' এর পক্ষে কলম চালিয়ে এসেছি সেই কৃতজ্ঞতায়ই বোধহয় বিজ্ঞান হাতে তুলে দিল হাত বা চোখের উপর বেশী অত্যাচার না করে সহজে পুষ্টিকর উপায়ে বই পড়ার সুযোগ, ই-বুক| আহ্লাদে আটখানা হয়ে বিজ্ঞানের জয়ধ্বনি দিয়ে আমিও আবার ফিরিয়ে আনলাম বকবকানির সিরিজখানা| :-) 

Sunday, August 12, 2012

আর এ পি ই

চারদিকে খুব ধর্ষণ ধর্ষণ রব উঠেছে| দৃশ্য, শ্রাব্য যত রকম মাধ্যম আছে সবেতেই একটা দুটো তিনটে চারটে করে ঘটনা দেখা/শোনা যাচ্ছে, পরিচিত সমাজকর্মী মুখ গম্ভীর করে বলছেন 'রেপের সংখ্যা ভয়ংকরভাবে বেড়ে গেছে বুঝলেন'| একদ্ল রাজনীতিজীবি চেঁচাচ্ছে 'সব সাজানো| ধর্ষণ ফর্ষণ সব বোগাস'| আরেকদল রাজনীতিজীবি তুলে আনছে  আরো আরো অনেক ঘটনা|  আম জনতা যদি বলে আরে অতবড় অভিযোগ কোনও মেয়ে বানিয়ে বানিয়ে করতে পারে নাকি? তাহলে কলা জনগণ তৎক্ষণাৎ বলবে আরে করতে পারে না বলে কোনও কথা আছে? মানুষ পারে না এমন কাজই নেই, আর এ তো মেয়েমানুষ| লিচু জনগণ আবার ঠোঁট উল্টে বলে দিল দ্যাখো গিয়ে সব ভেতরে ভেতরে সাঁট আছে, তুমি-আমি কি বুঝবো ওসব ব্যপার, বাদ্দাও বাদ্দাও| মোদ্দাকথা হল প্রায় সকলেই ঐ নিয়ে কথা বলছে| কেউ বাংলায় বলে 'ধর্ষণ', যাদের আবার বাংলায় অস্বস্তিকর শব্দ দেখতে অসুবিধে লাগে তারা বলে 'রেপ', 'রেপকেস', রেপ ভিক্টিম'| তবে 'রেপ অ্যাক্ট্রেস' শব্দটা এখনও কেউ ব্যবহার করেন নি অবশ্য| ভাগ্যিস! 

Saturday, March 31, 2012

রান্নাবান্না সহজ নয়

'নারিকেল ভোজনে অহিত যদি হয়, তন্ডুলেতে উপশম জানিবে নিশ্চয়
আম্রফলে দুগ্ধে ঘৃতে জামীরের রস কদলীর ফলে ঘৃত পাচক সরস

"কাঁঠালে কদলী ফল, কদলীতে ঘৃত ঘৃতপাকে জম্বুরস জীর্ণমতে ধৃত

জামরস বিগুণে লবণ প্রতিফল বিঘ্নকর লবণে তন্ডুলধৌত জল